২২ অক্টোবর জীবনানন্দ দাসের ৬৪তম মৃত্যু বার্ষিকী ,অস্থিত্ব সংকটে জীবনানন্দদাসের পৈত্রিক ভিটা ও সেই ধানসিঁড়ি নদী ! - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Sunday, October 21, 2018

২২ অক্টোবর জীবনানন্দ দাসের ৬৪তম মৃত্যু বার্ষিকী ,অস্থিত্ব সংকটে জীবনানন্দদাসের পৈত্রিক ভিটা ও সেই ধানসিঁড়ি নদী !

 খলিলুর রহমান,ঝালকাঠি প্রতিনিধি ঃ  ২২ অক্টোবর রূপসী বাংলার প্রখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাসের ৬৪তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জীবনানন্দদাস জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক বাড়ী ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের বামনকাঠি গ্রামে। বামনকাঠি এলাকায় কবির পৈত্রিকভিটা অযতন্ত অবহেলায় পড়ে আছে। এমনকি জীবনানন্দ দাসের কবিতার বিখ্যাত সেই ধানসিঁড়ি, রুপসীয়া ও জাঙ্গালীয়া নদী আজ অস্তিত্ব হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। দেশ বিদেশের বহু পর্যটক জীবনানন্দের জন্মভিটা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
জীবনানন্দ দাস তার শৈশব থেকে কৈশোর এমনকি যৌবনের অনেক সময় পার করেছেন রাজাপুরের এই বামনকাঠি এলাকায়। ওই সময়ই কবি ধানসিঁড়ি নদীর প্রেমে পড়েন। এরপর তার বহু লেখনীতে ধানসিঁড়ি নদীর রূপ নিয়ে তিনি লেখেন। কবির লেখনীতে সেই ধানসিঁড়ি নদী পরিচিতি পায় দেশ-বিদেশে। কিন্তু কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই জীবনানন্দ দাসের ধানসিঁড়ি নদী। একসময়ের খর¯স্রোতে
অপরদিকে ধানসিঁড়ি নদীর পার্শ্ববর্তী বামনকাঠী এলাকায় জীবনানন্দ দাসের পৈত্রিক ভিটেও আজ জঙ্গলঘেরা। বিস্তৃর্ণ ধানক্ষেত আর মেঠোপথের এক প্রান্তে কোন মতে দাঁড়িয়ে আছে সেটি। কিছু গাছপালা ও একটি পুকুর ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছুই নেই সেখানে। বছর ত্রিশ আগেও পূর্বপুরুষরা এখানে বসবাস করতেন। সবকিছু ছেড়ে কলকাতা পাড়ি জমিয়েছেন তারাও। তবে স্থানীয়দের কাছে এখনও ওই বাড়িটি ‘দাশের ভিটা’ বলে পরিচিত।
বামনকাঠি এলাকার ষাটোর্ধ রমজান আলী বলেন, গত ত্রিশ বছর আগেও দাশের বাড়িতে অধি দাশ ও ভোলা দাশ নামে জীবনানন্দ দাসের দুইজন বংশোধর বসবাস করতেন। ওই সময় একটি ডাকাতির ঘটনায় দুই ডাকাত গনপিটুনিতে নিহত হওয়ার পর তারা পুলিশি হয়রানির ভয়ে দেশ ছেড়ে ভারত চলে গেছেন। এরপর থেকে ছাড়া ভিটায় পরিনত হয়েছে কবির জন্মস্থানটি।’
বামনকাঠি এলাকার আলী সিকদার বলেন, ‘ঢাকা ও কলকাতা থেকে বহু লোক আমাদের এখানে জীবনানন্দ দাসের বাড়ি দেখতে আসে। কিন্তু তারা শুধু জঙ্গল দেখে ফিরে যায়। আমরাও বিব্রত হই। আমাদের দাবী জীবনানন্দের বাড়িটিতে একটি স্মৃতি ফলক দিয়ে এটি সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হোক।’
জীবনানন্দ দাসকে নিয়ে একযুগেরও বেশি সময় যাবত গবেষনা করেছেন জেলার রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রভাষক মোঃ সোহরাব হোসেন। তিনি জানান, “কবির জন্মস্থান ও তার স্বজনদের খোঁজে আমি একাধিকবার ভারতের কোলকাতায় গিয়ে তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছি। কবির ধানসিঁড়ি কবিতায় যে তিনটি নদীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেমন, ধানসিঁড়ি, রুপসিয়া ও জাঙ্গালিয়া এই তিন নদীর অবস্থান কবির জন্মভিটার কাছেই। কবি অবশ্য রুপসিয়াকে রুপসা ও জাঙ্গালিয়াকে জলাঙ্গি নামে অবিহিত করেছেন। সোহরাব হোসেন আরো বলেন, যতদূর জানাযায় কবির পূর্ব পুরুষদের বাড়ী ফরিদপুর জেলায় ছিল কিন্তু সেখানে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে কবির দাদা সদানন্দ দাস তার তিন ছেলেকে নিয়ে এই বামনকাঠি গ্রামের সেন বাড়ীতে আশ্রয় নেয় এবং এখানেই সর্বানন্দ দাসের ঘরে ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী কবি জীবনানন্দ দাসের জন্ম হয়।’
কবি জীবনানন্দ দাসের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসক আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি,সাংস্কিৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করেছেন।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  বলেন, ‘রূপসী বাংলার কবিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তার স্মৃতি রক্ষার জন্য আমরা পদক্ষেপ নেব। অতি শীঘ্রই তার পৈত্রিক ভিটা সংরক্ষণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় বরাবর লিখিত আবেদন করা হবে। এছাড়া ইতোমধ্যেই ধানসিঁড়ি নদী খননের পুনরায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’


ধানসিঁড়ি নদী এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে।  ৬ বছর আগে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও তা লুটপাটেই শেষ হয়ে গেছে। রাজাপুর থেকে ঝালকাঠি গাবখান পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটারের অর্ধেকেরও বেশি অংশ রয়েছে অস্বিবত্ব সংকটে। নদীর এই অংশে বর্তমানে কচুরিপানায় ভরাট হয়ে পানি প্রবাহও প্রায় বন্ধের পথে। বর্ষা মৌসুমে পাঁচ থেকে ছয় ফিট পানি থাকলেও বছরের বেশিরভাগ সময়ে নদী থাকে শুকনো। তবে সীমিত পরিসরে বছরের কয়েকমাস ঝালকাঠির ছত্রকান্দা এলাকা থেকে গাবখান পর্যন্ত নৌকা ও ট্রলার যাতায়াত করে লোক ও পন্য আনা-নেয়া করা হয়।
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages