২৬ অক্টোবর শের-ই বাংলার ১৪৫ তম জন্ম বার্ষিকী ================== আজও অবহেলিত শের-ই বাংলার জন্মস্থান, নেই কোন স্মৃতি ! - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Thursday, October 25, 2018

২৬ অক্টোবর শের-ই বাংলার ১৪৫ তম জন্ম বার্ষিকী ================== আজও অবহেলিত শের-ই বাংলার জন্মস্থান, নেই কোন স্মৃতি !

খলিলুর রহমান,ঝালকাঠি প্রতিনিধি ঃ ২৬ অক্টোবর অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও বাংলার বাঘ খ্যাত শের-ই বাংলা একে ফজলুল হকের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭৩ সালের এই দিনে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়ার মিয়া বাড়িতে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওয়াজেদ আলী একজন প্রখ্যাত আইনজীবী ছিলেন এবং তার মাতা বেগম সৈয়েদুন্নেছা একজন গৃহিনী। শের-ই বাংলার জন্মস্থানে তাঁর বহু জন্মস্মৃতি থাকলেও তা এখন বিলুপ্ত প্রায়। অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে শের-ই বাংলার জন্মভবনটি। তার জন্মের প্রায় দেড়শ বছর কেটে গেলেও অবহেলা ও অযতেœ পড়ে রয়েছে তার জন্মস্থান।
বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজাপুরের সাতুরিয়ার মিয়া বংশের জমিদার বাড়ি এটি। এ বাড়িতেই জন্মেছিলেন শের-ই বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক। শৈশবের বেশির ভাগ সময় তিনি কাটিয়েছেন তাঁর এই মামার বাড়িতেই। এখানে ঘাট বাঁধানো পুকুরে গোসল করা, পাশের নদীতে সাঁতার কাটা, গাছ থেকে বাদাম পেড়ে খাওয়াসহ অনেক স্মৃতি পড়ে আছে এই বাড়িতে। তবে তাঁর জন্মস্থান সাতুরিয়ায় মিয়া বাড়ির সেই দালান সংস্কার বিহিন পরে আছে। মাত্র কয়েকবছর আগেও শের-ই বাংলার ব্যবহৃত বহু আসবাবপত্র এই বাড়িতে পড়ে থাকতে দেখা গেলেও মূল্যবান ওইসব জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। এমনকি তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাতুরিয়া এম এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও বেহাল দশা। ভবন বেঞ্চ সংকটসহ শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
শের-ই বাংলার বাল্যকালের শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজাপুরের সাতুরিয়ায়। শিক্ষা জীবন শেষে শের-ই বাংলা রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখেন। এবং রাজনীতিতে তিনি সফলতা লাভ করেন। তিনি অভিবক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে অগণিত খেটে খাওয়া মানুষের জমিদারদের করাল গ্রাস থেকে দিয়েছেন মুক্তি। এছাড়া তিনি অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন। যার ফলে বাঙালী জাতি আজ শিক্ষার আলো দেখতে পেয়েছে।
শের-ই বাংলার জন্মস্থান ও তার জন্মস্মৃতি দেখতে দূর দূরান্ত থেকে প্রতিনিয়ন বহু পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। তবে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান তার জন্মস্মৃতি আর জরাজীর্ণ ধ্বংসস্তুপ দেখে।
নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এখানে বেড়াতে আসেন শের-ই বাংলার জীবন ইতিহাস সম্পর্কে দেখতে শুনতে আর জানতে। এখানে ঘুরতে আসা পর্যটক রুমানা পিয়া বলেন ‘আমরা দূর দূরান্ত থেকে এখানে ঘুরতে আসি শের-ই বাংলার জীবন সম্পর্কে এবং তার ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য। কিন্তু এখানে এসে এই মহান নেতার জন্ম স্থানের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে আমাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।’
স্থানীয়সহ দূর দূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের দাবী এখানে শের-ই বাংলার নামে একটি স্মৃতি জাদুঘর ও একটি লাইব্রেরিসহ তার জন্মভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল বলেন, ‘শের-ই বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্মস্মৃতি রক্ষা এবং ওখানে জাদুঘর নির্মান করা হবে। প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরে সকল কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। ভবনের আতুরঘরটি ইতোমধ্যেই সংস্কার করা হয়েছে এবং ভবনটির বাহিরে স্মৃতিস্তম্ব করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য কাজও করা হবে।

উল্লেখ্য,এতোবছর পরে প্রত্নতত্ব বিভাগ একটু নজর দিয়েছেন, ভবনের যে রুমটিতে শের-ই বাংলা জন্ম গ্রহন করেছিলো সেই আঁতুরঘরের ভিতরটার কিছু অংশ এক বছর পূর্বে সংস্কার এবং ভবনের বাহিরে একটি স্মৃতিস্তম্ব করেছে যাহাতে তার জীবনী সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হয়েছে।

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages