রাজাপুরে ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষন চেষ্টার মামলা থেকে সাংবাদিক সহ চার জনকে অব্যহতি - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, August 13, 2018

রাজাপুরে ষড়যন্ত্রমূলক ধর্ষন চেষ্টার মামলা থেকে সাংবাদিক সহ চার জনকে অব্যহতি

এম খাইরুল ইসলাম পলাশ,নিজস্ব প্রতিবেদকঃঝালকাঠির রাজাপুরে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদানান, সাংবাদিক কামরুল হাসান মুরাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জুলফিকার আলী ও তার বড়ভাই মুক্তিযোদ্ধা আ: খালেক এর বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য নাজমা আক্তার মুন্নীর দায়েরকৃত মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

রবিবার মামলার চার্জ শুনানীকালে বাদী নাজমা আক্তার মুন্নী ও তার স্বামী জাকির হোসেনের জবানবন্দি প্রদানকালে স্বামী-স্ত্রী পরাষ্পর বিরোধী বক্তব্য প্রদান করে। এসময় সাংবাদকর্মী কসহ মামলায় ৪ আসামীর পক্ষে আইনজীবীরা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক নারী নির্যাতন মামলার চার্জ থেকে অব্যহতির জন্য আবেদন জানায়। ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারক ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক শুনানীঅন্তে এ আদেশ দেন বলে আইনজীবী সূত্রে জানাযায়।

মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আদানান ও মুরাদ জানায়, তারা সাবেক ওসি মুনীর, ওসি তদন্ত হারুন-অর-রশিদ, বাদী ইউপি সদস্য নাজমা আক্তার মুন্নী ও মামলার আইও এসআই ফিরোজসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
  
মামলার বিবরন ও আদালত সূত্রে জানাযায়, রাজাপুর সদরের বাইপাস মোড সংলগ্ন এলাকার একটি জমির মালিকানা নিয়ে ইউপি সদস্য নাজমা আক্তার মুন্নীর পিতা ইনুচ ঢ়াড়ীর সাথে মুক্তিযোদ্ধা আ: খালেক ও তার ভাই জুলফিকার এর সাথে বিরোধের একাধিক মামলার ঘটনা ঘটে। গত ২১ আগস্ট ইনুচ ঢ়াড়ী বিরোধীয় জমিতে নির্মান কাজ করাতে গেলে প্রতিপক্ষ জুলফিকার আলী ও তার বড় ভাই আ: খালেকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এঘটনায় ইউপি সদস্য মুন্নী বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদানান, তার ছোট ভাই সাংবাদিক কামরুল হাসান মুরাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জুলফিকার আলী ও তার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা আ: খালেকসহ ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। ‘জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনা এ কর্মকর্তাদ্বয়ের নোংরা খেলায় কিভাবে বানোয়াট নারী নির্যাতন মামলা রুপান্তরিত হয় এনিয়ে সাংবাদিকরা সরেজমিন তদন্তু পূর্বক সংবাদ প্রকাশ করলে জেলার সর্বমহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৎকালীন ওসি মুনির এএসপি সার্কেল মোজাম্মেল হোসেনকে এবং এএসপি সার্কেল মোজাম্মেল হোসেন ওসি শেখ মুনিরকে দায়ী করেন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিলে পুলিশের উর্ধতন মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
  
জমিজমা নিয়ে ইউপি সদস্য মুন্নীর পরিবারের সাথে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি জুলফিকার আলী ও তার বড়ভাই মুক্তিযোদ্ধা আ: খালেকের পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদানান ও তার ছোটভাই সাংবাদিক কামরুল হাসান মুরাদের সাথে তাদের কোন দ্বন্দ ছিলনা।

জমিজমা নিয়ে দু’পক্ষে সংঘর্ষ হলে সে জুলফিকার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বর্নালংকার-টাকা ছিনতাই ও চাঁদাদাবীর অভিযোগ নিয়ে থানায় যায়। তখন সাবেক ওসি মুনীর উল ও ওসি তদন্ত হারুন অর রশিদ তাদের প্রতিহিংসার জের মেটাতে আদনান-মুরাদকে আসামী করলে সর্বরকম সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে বাদী মুন্নিকে রাজী করায়। সে অনুযায়ী ওসি মুনীরের অনুরোধে ওসি তদন্ত হারুন অর রশিদ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০এর (ক) ধারায় অভিযোগ লিখে মুন্নীর স্বাক্ষর নিয়ে মামলার এজাহার রেকর্ড করায়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফিরোজের উপর প্রভাব বিস্তার করে উক্ত কর্মকর্তাদ্বয় তড়িগড়ি করে সকল আসামীর বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগপত্র প্রদান করে বলে জানায় ভুক্তোভুগীরা।
  

এ ঘটনায় আদনান-মুরাদের মা তাসলিমা বেগম জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে‘বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট ও শিষ্টের দমন, দুষ্টের পালনকারী’ রাজাপুরে থানার তৎকালীন ওসি শেখ মুনীর উল গিয়াস ও তার সকল অপকর্মের সহযোগী ওসি তদন্ত হারুন অর রশিদের আক্রোশ মূলক ভ‚মিকার তথ্য-প্রমান তুলে ধরেন।
এ অবস্থায় ওসি শেখ মুনীর উল গিয়াস ও ওসি তদন্ত হারুন অর রশিদ নিজেদের দায় এড়াতে তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলা সত্য মর্মে অভিযোগপত্র প্রদান করায়।

আদালতের রায়ের পর আদনান-মুরাদের মা তাসলিমা বেগম তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, মিথ্যার পক্ষে যতো শক্তিশালী ব্যক্তিরাই থাকুক যেটা সত্যি তা একদিন প্রমান হবেই। আমার ছেলেরা যে কোন অন্যায় অপকর্মে জড়িত নয় বরং পুলিশ ক্ষমতার অপব্যাবহার ও মিথ্যামামলা দিয়ে হয়রানি করেছে তার ই প্রমান হয়েছে এখন।
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages