টি ২০ সিরিজ শুরু বাংলাদেশে - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, August 01, 2018

টি ২০ সিরিজ শুরু বাংলাদেশে

www.samobad.com :: সমবাদ ডট কম ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচে বৃষ্টি-আইনে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ দল। সেন্ট কিটসে ছোট হয়ে আসা ৯১ রানের লক্ষ্য ৯.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের দল।
ওয়ানডে সিরিজের আত্মবিশ্বাসী রূপটা যেন ফরম্যাট বদলাতেই হাওয়া হয়ে গেল। বিবর্ণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পায়নি লড়াই করার পুঁজি। ক্যারিবীয়দের সামনে ১৪৪ রানের লক্ষ্য বৃষ্টির কারণে ১১ ওভারে দাঁড়ায় ৯১।
শুরুর দিকেই দুই উইকেট তুলে লড়াইয়ের আশা জাগান মোস্তাফিজুর রহমান। তবে আন্দ্রে রাসেল, মারলন স্যামুয়েলস, রোভম্যান পাওয়ালদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আটকে রাখা যায়নি ক্যারিবীয়দের। অনেক আগেই ম্যাচ শেষ করে সিরিজে এগিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আগে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ ওভারপ্রতি ৭.১৫ হারে রান তুললেও বৃষ্টি-আইনে নতুন টার্গেটে দরকার পড়ে ৮. ১০ হারে রান তোলার। চার-ছক্কার প্রদর্শনীতে সেটি সহজেই টপকে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মোস্তাফিজ ইনিংসের দ্বিতীয় আর নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নেন আন্দ্রে ফ্লেচার ও এভিন লুইসের উইকেট। ক্যারিবীয়দের দলীয় রান তখন ১০। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা রাসেল তিনে নেমে ধরেন হাল। মারলন স্যামুয়েলসকে নিয়ে ৪২ রানের জুটি গড়ে পথ দেখান দলকে। ১৩ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা স্যামুয়েলস রুবেল হোসেনের শিকার হয়ে যখন সাজঘরে ফেরেন দলের রান তখন ফিফটি পেরিয়ে।
রাসেল ২১ বলে ৩৫ ও পাওয়েল ৯ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ে নোঙর করান। সাকিবকে বিশাল ছক্কা মেরে খেলা শেষ করেন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই তামিম ও সৌম্যর উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট অবদানে।
কিন্তু লোয়ার মিডলঅর্ডারে কেউ ঝড়ো ইনিংস খেলতে না পারায় দেড়শ পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশ। ১১ ওভারে ১০০ রান তুলেও ১৪৩-এ থামতে হয়েছে সফরকারীদের। মাহমুদউল্লাহ ৩৫, লিটন ২৪, সাকিব ১৯, মুশফিক ১৫, আরিফুল ১৫ ও মিরাজ করেন ১১ রান।
ম্যাচ শুরুর খানিকক্ষণ আগেও বৃষ্টি হানা দেয় ওয়ার্নার পার্কে। তবে সেটি বাধা হতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট পরই ব্যাটিংয়ে নামেন সৌম্য ও তামিম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজ জিতে টেস্টে ভয়াবহ ব্যর্থতার গ্লানি কাটিয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। তলানিতে চলে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার পরও টি-টুয়েন্টি সংস্করণে দেখা গেল পুরনো রূপই। দেরাদুনে সবশেষ সিরিজে আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি সিরিজের শুরুতেই খেল বড় ধাক্কা।
জুটি গড়ে না ওঠায় লড়াকু পুঁজি পায়নি বাংলাদেশ। পুরো ইনিংসে উল্লেখ করার মতো জুটি ৪৩ রানের। পঞ্চম উইকেটে সাকিব-মুশফিক যোগ করে রানরেট আটের উপরে রাখেন।
পিচ রিপোর্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ক্রিকেটার জেফরি ডুজন জোর দিয়েই বলছিলেন ওয়ার্নার পার্কের আজকের উইকেট ব্যাটসম্যানদের। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট মানেই তো ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। সেটি অবশ্য বাংলাদেশ করতে পারেনি জুটি না হওয়ায়।
পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ দল। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। দুই ওপেনারই আউট হন প্রথম বল মোকাবেলা করতে গিয়ে। পরে লিটন দাসের সঙ্গে জুটি বেধে প্রতিরোধ গড়েন সাকিব আল হাসান।
২১ বলে ২৪ রান করে লিটন সাজঘরে ফেরার পরের বলেই আউট হন সাকিব। অধিনায়ক করেন ১০ বলে ১৯ রান। পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে পর পর দুই বলে উইকেট তুলে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান কিমো পল।
অফস্পিনার অ্যাসলে নার্সের প্রথম বল হাত থেকে ছাড়ার আগেই ডাউন দ্য উইকেটে এগিয়ে আসেন তামিম। এ বাঁহাতির গতিবিধি বুঝেই বল টেনে দেন নার্স। রামদিনের হাতে স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন। তিনে নামা লিটন দাস প্রথম বলে কাট শটে মারেন চার।
সিঙ্গেলস নিয়ে প্রান্ত বদলাতেই সৌম্য সরকার ফেরেন সাজঘরে। জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে দেখেন নিজের বোল্ড হওয়া। অদ্ভূতভাবে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
শুরুর দুই ব্যাটসম্যান শূন্য রানে হয়ে লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখান। টি-টুয়েন্টিতে এ নিয়ে সর্বোচ্চ তিনবার ‘ডাক’ মারলেন বাংলাদেশের ওপেনাররা।
টি-টুয়েন্টি সংস্করণে দুই ওপেনারই রান না করে আউট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩বার। যার মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি বাংলাদেশের দখলে। নেদারল্যান্ডসের ক্ষেত্রে এটি দুইবার। একবার করে বাকি আট দলের।
বাংলাদেশের প্রথমটি ২০১০ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রান না করেই সাজঘরে ফিরেছিলেন ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ আশরাফুল।
পরেরটি ৬ বছর পর দেশের মাটিতে ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে। মিরপুরে মোহাম্মদ মিঠুন ও সৌম্য সরকার আউট হন শুন্য রানে। বুধবার সেন্ট কিটসে তৃতীয়টিতেও নাম লেখান সৌম্য।
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages