শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পার্টিসহ প্রতারকচক্রের দৌরাত্ম্য থামছেই না - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, July 27, 2018

শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পার্টিসহ প্রতারকচক্রের দৌরাত্ম্য থামছেই না

www.samobad.com :: সমবাদ ডট কম ॥ হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পার্টিসহ প্রতারকচক্রের দৌরাত্ম্য থামছেই না। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রতিবেশী দেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এই পার্টির সদস্যরা লাগেজে করে আনছে দামি শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস, ওড়না, শার্ট, পাঞ্জাবি ছাড়াও শুল্কযুক্ত বিভিন্ন পণ্যসহ আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেটও। এ চক্রের শতাধিক যাত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দর দিয়ে বিভিন্ন দেশে নিয়মিত যাতায়াত করছে। 
সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের এক শ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে তল্লাশি ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল দিয়ে লাগেজ বাইরে নিয়ে আসে চক্রটি। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে কর্মরত সিভিল এভিয়েশনের কিছু নিরাপত্তা কর্মী ও আনসার কর্মী এতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্নিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, প্রায়ই বিমানবন্দরে বিভিন্ন যাত্রীর লাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে শুল্কযুক্ত পণ্য জব্দ করা হয়। আর এসব ঘটনায় বিমানবন্দর কাস্টমসে করা প্রায় অর্ধশত বিভাগীয় মামলার তদন্ত চলছে। কাস্টমস আইন অনুযায়ী এসব পণ্যের শুল্ক নির্ধারণ করে তাদের কাছ থেকে তা আদায় করা হয়। এছাড়া জব্দ অবৈধ সিগারেট পর্যটন কর্পোরেশনের কাছে বিক্রি করে তা থেকেও রাজস্ব আয় করা হয়।
সূত্র জানায়, এই চক্রের মধ্যে টোকাই সাগর, আশকোনা এলাকার বুকুল, সাহাবুদ্দিন, কুরিয়ার সাগর, মাসুদ ওরপে ডিব্বা মাসুদ, জিকু সাহাবুদ্দিন, আব্দুর জব্বার, সুন্দর বিপুল, কাওলা এলাকার মজিবুর, বুলবুল, কানা জাহাঙ্গীর, সম্রাট, হাবিব হাসান, জনি, কালা বিল্লাল জলি পাড়ার করিম খান ও জিন্না অন্যতম। এছাড়াও সরকার দলীয় বিভিন্ন এলাকার নেতা পরিচয়দানকারীরা বিভিন্ন নামে গ্রুপ তৈরী করে অবৈধ মালামাল পাচার ও টানা পার্টি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করে আসছে। আর এদের কাছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যরাও জিম্মি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশাসনের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, গত জুলাই মাসের প্রথম দিন হুমায়ুন কবির নামের এক প্রবাসীর লাগেজ উদ্ধার করলো এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় তার লাগেজটি উদ্ধার করা হয়। আবুধাবি প্রবাসী হুমায়ুন কবির গত ২৬ জুন ইতিহাদ এয়ারওয়েজযোগে ঢাকা বিমানবন্দরে আসেন। এয়ারওয়েজে থাকাকালীন সময়ে তার সাথে পরিচয় হয় চুয়াডাঙ্গার প্রবাসী মোহাম্মাদ বিল্লাল হোসেনের। যার ফলে তিনি নিজের আসন ছেড়ে বিল্লালের পাশের ফাঁকা সিটে বসেন। কিন্তু বিমান অবতরণ করলে বিল্লাল হূমায়ুনের ব্যাগ নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় চলে যায়। এরপর এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের নিকট তিনি অভিযোগ করলে তারা চুয়াডাঙ্গা পুলিশের সহায়তায় ৪৮ ঘণ্টা পর হ্যান্ডব্যাগটি উদ্ধার করে। এর আগে গত ১৪ জুন শাহজালালে ছদ্মবেশী দুই লাগেজ চোর ও প্রতারককে আটক করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিমানবন্দর বহিরাঙ্গন থেকে তাদের আটক করা হয়। জানা যায়, বিমানযাত্রী মোছা. রাজিয়া বেগম (৩২) সৌদি এয়ারলাইন্স যোগে সৌদি আরব থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে আসেন। তিনি ফার্মগেট যাওয়ার জন্য ভাড়ার গাড়ি খুঁজছিলেন। এ সময় প্রতারক মো. ফারুক ওরফে ইমন (৩১) এবং মো. মানিক মিয়া ওরফে রতন (৩৫) তাকে জিজ্ঞেস করেন কোথায় যাবেন। ফার্মগেট বললে তারাও বলে আমরাও ফার্মগেট যাবো। পরবর্তীতে তারা উক্ত যাত্রীর লাগেজ দুজনে নিয়ে যাত্রীসহ বিমানবন্দর গোলচত্বরের দিকে যাওয়ার সময় আর্মড পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের ভুল নাম বলে এবং এত সকালে বিমানবন্দরে আসার কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। পরবর্তীতে বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে নিয়ে গেলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ৩ মাসের কারাদ- প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত ফারুকের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে এবং মানিকের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকায় বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, লাগেজ পার্টির সদস্যরা যাত্রী হিসেবে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে শুল্কযুক্ত ও অবৈধ পণ্য বহন করে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় অবৈধ পণ্যভর্তি লাগেজ নিয়ে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে কৌশলে বের হয় চক্রটি। শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি কলকাতা-ঢাকা, ড্রাগন এয়ারের হংকং-ঢাকা, মালয়েশিয়া এয়ারের এমইএইচ মালয়েশিয়া-ঢাকা, থাই এয়ারের টিজি ব্যাংক-ঢাকা ফ্লাইটে লাগেজ পার্টির শতাধিক সদস্য যাত্রীবেশে বিদেশে যাতায়াত করে। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল এলাকায় কিছু লাগেজ তল্লাশি করা হলেও সিংহভাগই তল্লাশি ছাড়া বের হয়। গত ১৯ জুলাই শাহজালালে ৪১১ কার্টুন আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেটসহ ১ জনকে আটক করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। ঘটনার দিন ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিচতলা আগমনী ক্যানপি ১ থেকে আলম তৌহিদুলকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। আটক তৌহিদুলের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানাধীন সুয়াবিল গ্রামে বাড়ি। তার বাবার নাম মৃত মো. হোসাইন। তিনি কুয়েত এয়ারওয়েজ যোগে দুবাই থেকে ১৯ জুলাই ভোরে ঢাকায় আসে। বিমানবন্দরের ক্যানোপি ১ অতিক্রমের সময় আর্মড পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হলে তাকে তল্লশি করা হয়। তার হেফাজতে থাকা লাগেজ তল্লাশি করে বিভিন্ন মানের ৪১১ কার্টুন আমেরিকান সিগারেট জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩১ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঈদ উপলক্ষে লাগেজ পার্টির দৌরাত্ম্য বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের পার হওয়ার সুযোগ নেই। আর সন্দেহভাজন যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি করা হয় বলে জানান তিনি।
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages