কুমিল্লা-২ এ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকায় অপহৃত - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, July 27, 2018

কুমিল্লা-২ এ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকায় অপহৃত

www.samobad.com :: সমবাদ ডট কম ॥  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী এক নেতাকে ঢাকার লালমাটিয়ার তার বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নেতার নাম পারভেজ হোসেন সরকার। তিনি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা।
শুক্রবার (২৭জুলাই) দুপুরে লালমাটিয়া সি ব্লকের মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে পারভেজ বাসার ফেরার সময় কয়েকজন তাকে জোর করে একটি পাজেরো গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা পুলিশকে বলেছেন। পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। তবে কারা পারভেজকে তুলে নিয়ে গেছে সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেনি পুলিশ।
২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির আমির হোসেন। সে সময় সমঝোতার জন্য আওয়ামী লীগ এই আসনে প্রার্থী দেয়নি। তবে এবার স্থানীয় নেতা-কর্মীরা নৌকা মার্কায় প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, “প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে যারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তাদের কাছে ওয়্যারলেস আর অস্ত্র ছিল। তবে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিনা- সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
সিসিটিভি ফুটেজে পারভেজকে তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে পারভেজকে তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পারভেজ হোসেন ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে লালমাটিয়া সি ব্লকের ৩০ নম্বর বাড়িতে থাকতেন তিনি।
ওই বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী ওমর আলী বলেন, পারভেজ হোসেন ফেরার সময় বাসার সামনেই এক লোক তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে আসে এবং হাত মেলায়। তখন আরেক লোক আসে এবং দুজন মিলে জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে নেয়।
ওই চেয়ারম্যানের খালাত ভাই ফাহাদ মোহাম্মদ বলেন, তিতাসের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল শিকদারের সঙ্গে পারভেজ সরকারের অনেকদিন ধরেই রাজনৈতিক ঝামেলা চলছিল। ওই এলাকায় পারভেজ সরকার প্রোটোকল ছাড়া খুব একটা যাতায়াত করেন না। গত বছর গিয়েছিলেন এলাকায় তখন সোহেল শিকদারের লোকজন হামলা করেছিল। সোহেল নিজেই পারভেজকে লক্ষ করে গুলি করেছিল। কিন্তু গাড়িতে গুলি লাগায় তিনি বেঁচে যান।
ফাহাদ জানান, আজ তিনি লালমাটিয়া মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হয়ে বাসার কাছে এসেছেন। বাসার সামনে একজনের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছেন, যা দাঁড়োয়ান দেখেছে। এরপরই একটি কালো রঙের জিপ গাড়ি আসে। আরেকজন লোক আসলে দুজন মিলেই জোর করে তুলে নিয়ে যায় পারভেজকে।
ফাহাদ আরও বলেন, এরপর পুলিশকে খবর দিলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর ঘটনাস্থলে এসে সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন। সেখানে দেখা যায়, কালো রংয়ের ওই গাড়িটি সকাল থেকে বেশ কয়েকবার বাসার সামনে এসেছিল। গাড়ির নম্বর ঢাকা মেট্রো- ঘ ১৪-২৫৭৭। ওই গাড়িতে করেই দুজন লোক জোর করে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন পারভেজকে। এসময় পারভেজ চিৎকার করছিলেন বোঝা যাচ্ছে। দাঁড়োয়ানও পুলিশকে বলছিলেন, পারভেজ সাহেব বারবার বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিলেন।
ফাহাদ বলেন, লালমাটিয়া সি ব্লকের ৩০ বাড়িতে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন পারভেজ। তিনি গত ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। পরের বারও মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। এ ঘটনায় পরিবার থেকে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে দলের মনোনয়ন পেতে কাজ করছিলেন পারভেজ। তবে তাকে তুলে নেওয়ার পেছনে কারা থাকতে পারে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি তারা।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, “আমরা আশপাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখছি। কারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে সেটা পুলিশ জানার চেষ্টা করছে।”
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages