মোবাইল কোর্টে ডিসিরা আরো ক্ষমতা চান ? - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, July 25, 2018

মোবাইল কোর্টে ডিসিরা আরো ক্ষমতা চান ?

www.samobad.com :: সমবাদ ডট কম ॥ ভ্রাম্যমাণ আদালতকে আরও ক্ষমতা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন জেলা প্রশাসকরা। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এখন থেকে নির্বাচনকালীন সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি না ঘটে এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকে সে জন্যই আরও ক্ষমতা চেয়েছেন তারা। একইসঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বিশেষ করে প্রভাবশালীদের চাপে অনেক সময় প্রশাসনিক কাজে সমস্যা হয় এসব তুলে ধরেন ডিসিরা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসকদের কাজ করতে বলেন। তিনি বলেন, আপনারা নতুন প্রজন্মের। আপনারাই পারবেন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে। গতকাল ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনদিনব্যাপী জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন উদ্বোধন শেষে মুক্ত আলোচনায় ডিসিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসব কথা বলেন। বিস্বস্ত সূত্রে একথা জানাগেছে। এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশীশক্তি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি জেলা প্রশাসকদের শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য-পরিবহণ ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানে আমি বলতে চাই বিনা দ্বিধায় আপনারা এই টেন্ডারবাজি, পেশীশক্তি, সন্ত্রাস এবং মাদক নির্মূল করবেন। এখানে কে কোন দল করে, কে কি করে সেগুলো দেখার কোনো দরকার নেই। যদি কেউ বাধা দেয়, আপনারা সরাসরি আমার সঙ্গে বা আমার অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন। সরকারপ্রধান হতে পারি আমি কিন্তু জাতির পিতার কন্যা, আপনাদের সেটাও মনে রাখতে হবে।অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক বেগম শায়লা ফারজানা এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমান বক্তৃতা করেন। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি মত বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্যই এই সম্মেলনের আয়োজন। তৃণমূলপর্যায়ে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমস্যাসমূহ এবং সেগুলোর সমাধানের পথ ও কৌশল নির্ধারণে এ সম্মেলন কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিববৃন্দ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সকল জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার অভিশাপমুক্ত একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক, জ্ঞান-নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিহার করে আপনাদের সেবার মনোভাব নিয়ে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। একটি দেশের উন্নয়নে দেশে গণতন্ত্র বিদ্যমান থাকা এবং সরকারের ধারাবিহিকতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটানা দুই মেয়াদে প্রায় সাড়ে ৯ বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। ফলে আমরা অনেক উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আর্থ-সামাজিক খাতে আজ বাংলাদেশের যে অভাবনীয় অগ্রগতি, তা সম্ভব হয়েছে এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকার জন্য। জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক সূচকের ক্ষেত্রে আমরা শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নয়, অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে যেতে পেরেছি।প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে আমরা কেমন দেখতে চাই সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকদের এসব পরিকল্পনা প্রণয়নে তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের সন্নিবেশন ঘটানোর আহ্বান জানান। তিনি সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা এবং চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখাসহ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের ২৩ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। ২৩ দফা নির্দেশনা ছাড়াও জাতীয় গৌরব, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ট্রাফিক রুল সম্পর্কে গণসচেতনতা গড়ে তোলা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা- চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর এবং বরিশালের মধ্যে বুলেট ট্রেন (দ্রুতগতির ট্রেন) চালুর পরিকল্পনা তার সরকারের রয়েছে। তিনি এ সময় রেল যোগাযোগের পরিসর আরও বাড়ানোর জন্য ঢাকা থেকে বরিশালসহ পায়রাবন্দর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং ভবিষ্যতে বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণের লক্ষ্যে লালমনির হাটে একটি অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা প্রশাসকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ২৩ দফা নির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন উদ্বোধনকালে তাদের জন্য ২৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছেÑ সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এবং মাদকবিরোধী অভিযান চলবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচনে উদ্যোগী হতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে। তৃণমূলপর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। শিক্ষার সকল স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘœ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিতে হবে। ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকা- কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এছাড়া দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে ‘দুর্যোগব্যবস্থাপনা আইন ২০১২’ এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনাবলি অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলো কার্যকর করতে হবে। জেলা প্রশাসকগণ জেলাপর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এসব কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে। দপ্তরসমূহের বিদ্যমান সেবাসমূহ তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্য মেলা, সেবা সপ্তাহ পালনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য-পরিবহণ ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘœ করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশীশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাজার-ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন ও পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে নজরদারি বাড়াতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনিব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিজ নিজ জেলায় ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে। প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পার্বত্য জেলাসমূহের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী-জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে হবে।
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages