হরিণাকুন্ডুতে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে বিস্তর অনিয়ম - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, July 23, 2018

হরিণাকুন্ডুতে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে বিস্তর অনিয়ম

www.samobad.com :: সমবাদ ডট কম ॥ ঝিনাইদহ-হরিণাকুন্ডু পাকা সড়ক সংস্কার ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ খাতা-কলমে সমাপ্ত। ¤্রকৃতপক্ষে কাজটি যথাসময়ে করা হয়নি। গত ৩০ জুন কাজটি শেষ করার কথা ছিল। এরই মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পাওনাসহ ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়েছে। এ খবর বৃহস্পতিবার জানাজানি হয়ে পড়ে। এতে করে তোলপাড় শুরু হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন দাবি করেছেন, চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হলেও পাওনা টাকার চেক এখনও ঠিকাদারকে হস্তান্তর করা হয়নি। সরেজমিনে হরিণাকুন্ডু সড়ক পরিদর্শনকালে দেখা যায়, হরিণাকুন্ডুু উপজেলার মোড় এলাকায় পিচ কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। সড়কের একটি বিশাল কালভার্টসহ সোল্ডারে মাটি ভরাট এবং রোড মার্কিংয়ের কাজ চলছে ঢিলে ঢালা ভাবে। কয়েকজন নারী শ্রমিক রাস্তার পাশের গর্ত থেকে মাটি কেটে সোল্ডারে দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদার যেভাবে বলেছেন সেভাবেই মাটি দিচ্ছেন তারা। সিডিউল মোতাবেক ঠিকাদারকে অন্য স্থান থেকে মাটি এনে সড়কের সোল্ডারে দেয়া কথা। এ কাজের জন্য কয়েক কোটি টাকা সিডিউলে ধরা রয়েছে। দেখা যায় সড়কের কাপাসাটিয়া (ডাকপার) খালের ওপর প্রায় ২০ মিটার লম্বা এবং ১০ মিটার প্রস্থ বড় কালভার্ট নির্মাণ কাজ আজো শেষ হয়নি। ওই খালের ওপর অস্থায়ীভাবে তৈরি করা একটি বেইলি ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে হরিণাকুন্ডু উপজেলা শহরের মোড় পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জনদুর্ভোগ কমাতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সড়কটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সড়কটি নির্মাণ করতে এডিবির বরাদ্দ থেকে ৪২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। র‌্যাব আরসি ও মেসার্স জহিরুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে সর্বনি¤œ দরদাতা নির্বাচিত হয়। সিডিউল মোতাবেক সড়কটির ১২ ফুটের জায়গায় ১৮ ফুট প্রশস্তকরণসহ পিচ কার্পেটিংয়ের সঙ্গে ১৭টি ছোট এবং একটি বড় কালভার্ট নির্মাণ করার কথা। সেই সঙ্গে সড়কের দু’ধারের সোল্ডারে ৩ ফুট প্রশস্ত করে মাটি ভরাট করে রোড মার্কিং চেক (এক ধরনের পিলার) দেয়ার কথা। পৃথক ৩টি প্যাকেজে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার জন্য নির্বাচিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। কাজের তদারকি করছেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতর ঝিনাইদহ বিভাগ। প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছরের মে মাসে কাজটি শুরু করা হয়। প্রথম থেকেই ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। নি¤œানের ইট-বালু খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগে ওই বছরের ৮ আগস্ট এলাকাবাসী কাজটি বন্ধ করে দেয়। সূত্রমতে আরো জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের ৩০ জুন করা হয়। বর্ধিত সময়েও কাজটি শেষ হয়নি। স্থানীয় সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত ৩০ জুন চূড়ান্ত বিলসহ ঠিকাদারের নামে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, কাজ শেষ না হলেও টেকনিক্যাল কারণে ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর জন্য প্রচন্ড চাপে পড়েছেন তারা। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি এ কর্মকর্তা। অভিযোগ করা হয়েছে কাজটি শেষ না হলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠনের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং গোপনে খাতাপত্রে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ একটি চক্র ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।





মোঃ জাহিদুর রহমান তারিক,

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages