সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ভেঙ্গে পড়েছে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র চিকিৎসা ব্যবস্থা - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Thursday, December 28, 2017

সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ভেঙ্গে পড়েছে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র চিকিৎসা ব্যবস্থা



এম খাইরুল ইসলাম পলাশ,নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজাপুর (ঝালকাঠি )প্রতিনিধি : স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দ্বার গোড়ায় পৌছাতে নিরলস ভাবে কাজ করছেন বাংলাদেশ সরকারএজন্য সরকার ওয়ার্ড, ইউনিয়, উপজেলা পর্যায়ে ক্লিনিক, মেডিকেল তৈরি করেছেন কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করেছেন এর পরেও দুর্নীতি, তদারকি আর সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ভেঙ্গে পড়েছে ঝালকাঠি জেলাধীন রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা ব্যবস্থা  রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেশি সময় ধরে নিজ এলাকায় চাকরী করার সুবাদে কর্মকর্তা কর্মচারিরা কাউকেই জবাবদিহি করার কোন প্রয়োজন মনে করেনা এতে ক্ষতি হচ্ছে সরকারের, প্রতারিত হচ্ছে জনগণ আর লাভবান হচ্ছে উক্ত মেডিকেলের কর্মকর্তা কর্মচারীরগন
চিকিৎসক-সংকটের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী যথাযথ সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন গাইনি চিকিৎসকের পাশাপাশি এখানে সার্জারি, নাক-কান-গলা, চক্ষু, দন্ত বিশেষজ্ঞ দের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা থাকায় এখানে রাজাপুর ছাড়াও কাউখালী উপজেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসে এজন্য রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যায় থেকে উন্নীত করার দীর্ঘদিনের দাবির মুখে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পদক্ষেপ নেয়া হয় ২০০৪ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনসহ অবকাঠামো তৈরি করা হয় সেগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয় ২০০৯ সালের জুন মাসে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পরও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল বাড়েনি বর্তমানে ৩১ শয্যারও কম জনবল রয়েছে ফলে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হওয়া দূরে থাক, ৩১ শয্যার কার্যক্রমই চলছে খুঁড়িয়ে চিকিৎসক-সংকটের কারণে এই হাসপাতালে চলমান জন্মনিয়ন্ত্রণ, প্রসূতিসেবা (ইওসি) এবং মা শিশুমৃত্যু রোধ (এমএনএইচ) কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১৬০/১৬৫ জন রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন ছাড়া অর্šÍবিভাগে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন মাত্র তিনজন চিকিৎসক তাঁদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন
এখানে চিকিৎসকসহ ১৪৭টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৯৭ জন জরুরী প্রসূতী সেবা (..সি) কার্যক্রম যেখানে ২৪ ঘন্টা চলার কথা, সেখানে চলে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বেশির ভাগ সময় জরুরী প্রসূতী সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে সময় জরুরী প্রসূতী সেবার জন্য কোন রোগী আসলে চিকিৎসক এবং নার্সগণ তাকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রেরনের চেষ্টা করে থাকেন রেফার্ডের সুবাদে চিকিৎসক নার্সরা রেফারাল ফি হিসাবে নগদ নারায়ন পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে
অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন থেকে বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সেটি মেরামত করার উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে যার ফলে রোগীদের সামান্য পরীক্ষার জন্যই যেতে হচ্ছে শহরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সরকার চিকিৎসা সেবা জনগনের দোর গোড়ায় পৌঁছিয়ে দিতে উন্নত মানের একটি আল্ট্রাসোনো গ্রাফিমেশিন হাসপাতালে প্রদান করলেও সোনলোজিস্ট না থাকায় নষ্ট হতে বসেছে / লাখ টাকা মূল্যের মেশিনটি একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স গাড়ী সেটিও তেলের ভর্তুকির টাকা বকেয়া থাকায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে অপরদিকে ১৯ জন গুরুর্ত্ব পূর্ণ ডাক্তারের পদ খালি রয়েছে দীর্ঘ দিন ছাড়া ১০ জন নার্স, জন টেকনোলোজিস্ট জন ফিল্ড ষ্টাফ সহ ৫০ টি পদে কোন লোক নেই ছাড়া ৪র্থ শ্রেণীর ৪টি পদ দীর্ঘ দিন শুন্য পড়ে আছে ফলে অল্প জনশক্তি নিয়ে চলছে বৃহত্তর উপজেলার চিকিৎসা কার্যক্রম জনসংখ্যার তুলনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল কাঠামো অত্যান্ত নগন্য ফলে উপজেলার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলি চিকিৎসকের অভাবে অবহেলিত এমনকি জরুরী বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় উপসহকারী চিকিৎসক কর্মকর্তাদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হয় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ নার্স, আয়া, পিয়নসহ অন্যান্য কর্মচারীর পদও আনুপাতিক হারে বাড়ার কথা সরেজমিনে দেখা যায়, অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বার রয়েছে কিন্তু লোকবল না থাকায় সেগুলোতে কার্যক্রম চলছে না ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্যও এখানকার রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিক অথবা বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে যেতে হয় এখানে নাম মাত্র জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকলেও, অধিকাংশ বিছানা ভাঙাচোরা, অপরিষ্কার থাকে হাসপাতাল বিদ্যুৎতের লোডশেডিংয়ের সময় উপজেলা পরিষদ থেকে পাওয়া ছোট জেনারেটরটি ব্যবহার করলেও হাসপাতালের ভিতরে ভুতুড়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ছাড়া ৫০ শয্যার ভবনটিতে অপারেশন থিয়েটার কক্ষ থাকলেও সেখানে চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটারটি কোনো কাজে আসাছে না জন্য এলাকার প্রসূতি রোগীদের নিরাপদ সন্তান প্রসবের জন্য বেছে নিতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক অথবা উপজেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এতে বিপাকে পড়েছে দরিদ্র পরিবারগুলো
বিশেষ করে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডাক্তার না থাকায় মহিলারা যৌনরোগ নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অঞ্চলে অধিকাংশ নারী অশিক্ষিত হওয়ায় যৌনরোগ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা বা সচেতনতা না থাকার কারণে লজ্জায় পুরুষ ডাক্তারের কাছে বিষয়গুলো অবলীলায় বলতে না পারায় তারা বিভিন্ন জটিল কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন একমাত্র এক্স-রে মেশিন বরাদ্দের পর, টেকনেশিয়ানের অভাবে পড়ে থাকায় সেটিও এখন বিকল হয়ে পড়েছে অবকাঠামো নির্মাণ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পরও জনবল এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ না থাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না অঞ্চলের বাসিন্দারা মহিলা, পুরুষ শিশু বিভাগের ৫টি ওয়ার্ডের টয়লেট দুর্গন্ধযুক্ত বিছানার পর্দা ময়লাযুক্ত ছেড়া নতুন কোন তোয়ালা নেই মেকানিকাল গাফিলতির কারনে টয়লেটে প্রায় পানি থাকেনা, উপর নিচেই ময়লা সুইপারের অবহেলার কারণে অত্যান্ত দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেটেই রোগীদের যাতায়াত করতে হয় ফলে টয়লেটের চার পাশে নোংরা ময়লা থাকে সবসময় কোন সুস্থ্ লোক দুই-তিনবার এই টয়লেটে প্রবেশ করলে তাকে অসুস্থ্ হতে হবে বলে ভর্তিকৃত রোগীরা বলেন
সন্তানসম্বাবা স্ত্রীকে নিয়ে আসা নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন 'জরুরী ভিত্তিতে আমার স্ত্রীর সিজার করা দরকার অথচ জায়গায় সুন্দর অপারেশন থিয়েটার থাকার পরও সিজারের ব্যবস্থা নাই বাধ্য হয়া স্ত্রীকে বরিশাল নেয়া লাগবে                                                            সকল বিষয় নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন স্বাস্থ্যসেবার মত মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব দুর্ভাগ্য ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলেও লোকবল পাওয়া যায়নি ফলে ৫০ শয্যার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না তবে ৫০ শয্যা অনুযায়ী রোগীদের খাদ্য সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে তার উপর একমাত্র এক্স-রে মেশিন, জেনারেটর একটি অ্যাম্বুল্যান্স বিকল হয়ে আছে লোকবল বাড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে 
এছাড়া একটি জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি পদ, একটি জুনিয়র কনসালট্যান্ট গাইনি পদ, একটি জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, একটি মেডিকেল অফিসার, একটি ডেন্টাল সার্জন, দুটি মেডিকেল অফিসার (উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র), তিনটি সহকারী সার্জন (ইউনিয়ন পর্যায়ে), চারটি সিনিয়র স্টাফ নার্স, একটি পরিসংখ্যানবিদ, একটি স্টোরকিপার, দুটি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, একটি উপ. সহ. কমি. মেডিকেল অফিসার, দুটি ফার্মাসিস্ট (ইউএইচসি), দুটি ফার্মাসিস্ট (ইউএসসি), দুটি ল্যাব টেকনিশিয়ান, একটি রেডিওগ্রাফি, একটি সহকারী নার্স, দুটি স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পাঁচটি সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১২টি স্বাস্থ্য সহকারী, আটটি অফিস সহায়ক, দুটি ওয়ার্ডবয়, একটি আয়া, একটি নিরাপত্তা প্রহরী, একটি মালির পদসহ চারজন সুইপারের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages