২৬ অক্টোবর শের-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক’র ১৪৪ তম জম্নদিন - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, October 25, 2017

২৬ অক্টোবর শের-ই-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক’র ১৪৪ তম জম্নদিন



এম খাইরুল ইসলাম পলাশ : আজ বাংলার বাঘ শের--বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক’র ১৪৪ তম ¤œদিন। বাংলার বাঘ শের--বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে (২৬ অক্টোবর) বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানায় সাতুরিয়া গ্রামে তার মামার বাড়িতে ¤œগ্রহন করেন। তিনি কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ সাইদুন্নেছা খাতুনের একমাত্র পুত্র ছিলেন।
পরিচিতি:শিক্ষা শের--বাংলার  প্রাথমিক  শিক্ষা তার নিজ বাড়ীতেই শুরু হয়।পরে তিনি নিজ গ্রামের পাটশালায় ভর্তি হয়। গৃহ শিক্ষকের কাছে তিনি আরবি,ফার্সি,বাংলা ভাষা শিক্ষা লাভ করেন।১৮৮১ সালে তিনি বরিশাল জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তি হয়।১৮৮৬ সালে অষ্টম শ্রেনীতে তিনি বৃত্তি লাভ করেন ১৮৮৯ সালে প্রবেশিকা পরিক্ষায় তৎকালিন ঢাকা বিভাগে মুসলমানদের মধ্যে তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন।প্রবেশিকা পাশের পরে তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য কলকাতা গমন করেন। ১৮৯১ সালে কলকাতা প্রেসিডিন্সি কলেজ থেকে এফ. পরিক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তির্ন হয়।
সে সময় প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক ছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। নিজের মেধার বলে তিনি প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এফ.. পাশ করার পর তিনি গণিত, রসায়ন পদার্থ বিদ্যায় অনার্সসহ একই কলেজে বি.. ক্লাসে ভর্তি হন। ১৮৯৩ সালে তিনি তিনটি বিষয়ে অনার্সসহ প্রথম শ্রেণীতে বি.. পাশ করেন। বি.. পাশ করার পর এম.. ক্লাসে প্রথমে ভর্তি  হয়ে ছিলেন ইংরেজি ভাষায়। পরীক্ষার মাত্র ছয় মাস আগে তাকে এক বন্ধু ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন যে, মুসলমান ছাত্ররা অঙ্ক নিয়ে পড়ে না, কারণ তারা মেধাবী নয়। এই কথা শুনে . কে. ফজলুক হকের জিদ চড়ে যায়। তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে, অঙ্কশাস্ত্রেই পরীক্ষা দেবেন। এরপর, মাত্র ছয় মাস অঙ্ক  পড়েই তিনি প্রথম শ্রেণী লাভ করেন।
খেলা ধুলা : খেলাধুলার প্রতি ফজলুল হক খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি প্রথম জীবনে নিজে বিভিন্ন খেলাধুলার সাথে জড়িত  ছিলেন এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। তিনি মোহামেডান ফুটবল ক্লাবের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দাবা, সাঁতার সহ বিভিন্ন খেলা পছন্দ করতেন।
পরিবার পরিজন: শের--বাংলা . কে. ফজলুক হকের পূর্বপুরুষ  আঠার শতকে ভারতের ভাগলপুর হতে পুটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার বিলবিলাস গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। বংশের কাজী মুর্তজা একজন সম্ভান্ত ব্যক্তি ছিলেন। তার পুত্র কাজী মুহম্মদ আমিন। কাজী মুহম্মদ আমিনের পুত্র মুহম্মদ আকরাম আলী বরিশাল কোর্টে আইন ব্যবসা করতেন। তার দুই পুত্র কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ কাজী আবদুল কাদের পাঁচ কন্যা। কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদের একমাত্র পুত্র ছিলেন শের--বাংলা . কে. ফজলুক হক। কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ ১৮৪৩ সালে চাখারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়া লেখা করেন। বাংলার মুসলমানদের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ গ্রাজুয়েট ছিলেন। ১৮৭১ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি বি. এল. পাশ করে আইন ব্যবসা শুরু করেন। মুহম্মদ ওয়াজেদ রাজাপুর থানার সাতুরিয়া  মিঞা বাড়ির  আহমদ আলী মিঞার কন্যা বেগম সৈয়াদুন্নেছাকে  বিয়ে করেন। মুহম্মদ ওয়াজেদ ১৯০১ সালের ফেব্রুয়ারি বরিশালে মৃত্যুবরণ করেন।
. কে. ফজলুক হক এম.. পাশ করার পর দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন। সময় নবাব আবদুল লতিফ সি. আই. .-এর পৌত্রী খুরশিদ তালাত বেগমের সাথে তার বিয়ে হয়। খুরশিদ তালাত বেগম দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। খুরশিদ তালাত বেগমের অকাল মৃত্যুর পর তিনি হুগলী জেলার অধিবাসী এবং কলকাতা অবস্থানকারী ইবনে আহমদের কন্যা জিনাতুন্নেসা বেগমকে বিয়ে করেন। কিন্তু, জিনাতুন্নেসাও নিঃসন্তান অবস্থায় পরলোক গমন করেন এবং ১৯৪৩ সালে . কে. ফজলুক হক মীরাটের এক ভদ্র মহিলাকে পতœীত্বে বরণ করেন।                                          তাঁদের সন্তান . কে. ফাইজুল হক ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পাট প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ২০০৭ সালে মারা যান।
কর্মজীবনঃ
১৮৯৭ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বি.এল. পাশ করে স্যার আশুতোষ মুখাজ্যির শিক্ষানবিশ হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেন . কে. ফজলুক হক। দুবছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার পর ১৯০০ সালে তিনি সরাসরি আইন ব্যবসা শুরু করেন। পিতার মৃত্যুর পর ১৯০১ সালে তিনি বরিশালের ফিরে আসেন এবং বরিশাল আদালতে যোগদান করেন। ১৯০৩ - ১৯০৪ সালে বরিশাল বার এসোসিয়েশনের সহকারী সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। সময়ই তিনি বরিশাল রাজচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর হরেন্দ্রনাথ মুখার্জির অণুরোধে কলেজে অঙ্কশাস্ত্রের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।১৯০৬ সালে আইন ব্যবসা ছেড়ে ফজলুল হক সরকারি চাকরি গ্রহণ করেন। পূর্ব-বাংলার গভর্ণর ব্যামফিল্ড ফুলার তাকে ডেকে সম্মানের সাথে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেন। সরকারি চাকুরিতে তিনি কিছুদিন ঢাকা ময়মনসিংহে কাজ করেন। এরপর তাকে জামালপুর মহকুমার এস.ডি. হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে জামালপুরে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা হয়। ফজলুল হকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেখানে দাঙ্গা বন্ধ হয়। জামালপুর মহকুমাতে চাকরি করার সময় তিনি জমিদার মহাজনের যে নির্মম অত্যাচার নিজের চোখে দেখেন, পরবর্তী জীবনে এর প্রতিকার করতে গিয়ে সে অভিজ্ঞতা হয়। ১৯০৮ সালে এস.ডি.এর পদ ছেড়ে দিয়ে  তিনি সমবায়ের সহকারী রেজিস্ট্রার পদ গ্রহণ করেন। এসময় তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষক শ্রমিকদের বাস্তব অবস্থা নিজের চোখে পর্যবেক্ষণ করেন। সরকারের সাথে বনাবনি না হওয়ায় অল্পদিনের মধ্যেই তিনি চাকুরি ছেড়ে দিলেন। সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ১৯১১ সালে . কে. ফজলুক হক কলকাতা হাইকোর্টে যোগ দেন। কলকাতায় তাকে সেদিন নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া। সংবর্ধনা সভার সভাপতিত্ব করেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ।তার উক্তির মধ্যে অন্যতম ছিলনাঙ্গল যার জমি তার
বৃটিশ আমলে রাজনীতি :
বরিশাল পৌরসভা নির্বাচন,বঙ্গীয় আইন পরিষদ, নিখিল ভারত মুসলিম লীগ, নিখিল ভারত কংগ্রেস,
খেলাফত আন্দোলন, বাংলার শিক্ষামন্ত্রী,র‌্যামজে ম্যাকডোনান্ডের গোল টেবিল বৈঠক, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচন।
কৃষক রাজানীতি,১৯৩৭ এর নির্বাচন,বাংলার প্রধানমন্ত্রী,লাহোর প্রস্তাব,মুসলিম লীগে যোগদান।
পাকিস্তান আমলে রাজনীতি:
১৯৫৩ সালে কৃষক শ্রমীক পার্টি গঠন,১৯৫৩ সালের ৪ই ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠন, পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী .কে. ফজলুল হক, ১৯৫৫ এর নির্বাচন,১৯৫৬ সালে পুর্ব পাকিস্তানের গর্ভণর
অবসরে .কে.ফজলুল হক:
১৯৫৮ এর ২৭ অক্টোবর আবুল কাশেম ফজলুল হককে পাকিস্তানের  দ্বিতীয় সোর্বচ্চ পদকহেলাল--পাকিস্তানখেতাব দেওয়া হয়। ১৯৬১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ তাকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করে এবং তাকে হলের আজীবন সদস্য পদ প্রদান করে এই সংবর্ধনা সভার পর তিনি আর কোন জনসভায় যোগদান করেননি।
মৃত্যু:                                                                                                            ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল শুত্রুবার সকাল ১০ টা ২০ মিনিটে  .কে.ফজলুল হক ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যু  বরণ করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত তিন নেতার মাজারে শের--বাংলা কে ফজলুল হকের কবর
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধক্ষ্য মনিরুজ্জামান মহান নেতার ১৪৪ তম ¤œদিন উপলক্ষে বলেন,আমি রাজাপুরে ¤œগ্রহন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি কারন কিংবদন্তি মহান মানুষ শের--বাংলা ফজলুল হকের ¤œ রাজাপুরে। শের--বাংলার ইতিহাস তরুন প্রজ¤œকে জানাতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা বেগম পারুল জানান,আমি রাজাপুরে চাকুরী করতে পেরে নিজেকে গর্বীত মনে করি কারন মহান নেতা শের--বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হক ¤œস্থান এই রাজাপুরে।রাজাপুরে  বিভিন œ সংগঠনে  মাহান নেতার ১৪৪ তম ¤œদিন পালনের মধ্য দিয়ে তাকে স্বরন করবেন।
রাজাপুর থানা ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শামসুল আরেফিন জানান,আমি ধন্য কারন বাংলার বাঘ শের--বাংলা আবুলকাসেম ফজলুল হক বাড়ী আর আমার বাড়ী একই এলাকায় চাখারে।আমি আজ রাজাপুর থানায় চাকুরী করতে পেরে গর্বীত কারন শের--বাংলার ¤œস্থান এই রাজাপুরে।আমাদের দেশ আজ শিক্ষার আলোয় আলোকিত ওই মহান ব্যাক্তির জন্য।তার শ্লোগান ছিলশিক্ষার আলো ঘড়ে ঘড়ে জালো।তিনি বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাঙালি কূটনীতিক হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট 'শের--বাংলা' এবং 'হক সাহেব' নামে পরিচিত। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিস্থান করেছেন তার মধ্যে কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭ - ১৯৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫), পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬ - ১৯৫৮) অন্যতম। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।আমরা তাকে আমাদের অন্তরের অন্তরস্থলে স্বরনে রেখেছি।
রাজাপুর উপজেলা বাসীর দাবি বাংলার বাঘ শের--বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের ¤œস্থানকে উন্নতিকরণ করা হোক,যেখানে তার জীবন কাহিনি নিয়েএকটি যাদুঘড় থাকবে,তার ¤œস্থান দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে আসা  মানুষের জন্য থাকার ব্যাবস্থা থাকবে। তরুন প্রজ¤œকে তার জিবন কাহিনি জানাতে হবে।
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages