সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী সন্ত্রাসী শাহিন সর্দার ইলশে টুকরো হয়ে নিহত - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Saturday, September 23, 2017

সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী সন্ত্রাসী শাহিন সর্দার ইলশে টুকরো হয়ে নিহত

www.samobad.com :: সমবাদ ডট কম ॥ আরিফুর রহমানঃঃ হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীদের থাইল্যান্ডি আর পানামা জুয়ার ফাঁদে ফেলে তাদেরকে সর্বশান্ত করতো শাহীন আর তার গ্যাং। ১০ টাকা দিয়ে টিকেট কিনে ১হাজার রিয়াল বেতন পাওয়া একজন শ্রমিক যখন দুই লক্ষ রিয়াল পুরস্কার জিতে নিতো, তখন প্রচারণা ছাড়াই হাজার হাজার নিরীহ বাঙালী টিকেট কিনতো।

আসল ঘটনাটি ছিলো, শাহীন জোচ্চুরি করে পুরস্কারটি দিত তার চুক্তিভিত্তিক লোককে যারা প্রকাশ্যে পুরস্কারের টাকা নিয়ে পরে অধিকাংশ টাকা শাহীনকে ফেরত দিতো। তাদের কাজ ছিল প্রচার করা যে তারা দু লক্ষ রিয়াল জিতেছে।

কুতুবপুর, শিবচর মাদারীপুরের শাহীন নির্মাণ শ্রমিক হিসাবে সৌদি আসে এবং ধীরে ধীরে অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। তার সাথে স্থানীয় কিছু ক্রিমিনালের যোগাযোগ থাকায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ কখনো কোনো একশন নেয়নি। শাহীনের জুয়ার জগৎ ঠিক রাখতে বিভিন্ন জেলাওয়ারি সংঘর্ষ লেগেই থাকতো রিয়াদে। বাংলাদেশীদের রড, তলোয়ার নিয়ে মারামারির কারণে একটি রাস্তার নাম হলো টেনশন গলি, সৌদিরা বলতো 'সারা আল খাতড়া' -- বিপদের রাস্তা।

জুয়ার পরে শাহীন শুরু করে গুম বাণিজ্য। ব্যবসায়ী বাংলাদেশিদের গুম করে মুক্তিপণ আদায় করতো শাহীন গ্যাং। তার সাথে জড়িত হয় ইয়েমেনি আর সোমালী গ্যাং। তারা বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের ধরে নিতো সৌদি পুলিশের বেশ ধরে। পুলিশ মনে করে অনেক অনভিজ্ঞ মানুষ তাদেরকে মুক্তিপণ দিতো। এইসব অপরাধ শাহীন শেখাতো নতুন অবাঙালী দুর্বৃত্তদের।

বাংলাদেশ প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম এই ক্রিমিনাল তৎপরতা রোধে রিয়াদে বাংলাদেশী কম্যুনিটি লিডার আর পুলিশ নিয়ে সচেতনতামূলক দুর্নীতি বিরোধী মিছিল করেছিলেন রিয়াদে। বর্তমান রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ সৌদি সরকারকে বিস্তারিত জানিয়ে সব ধরণের ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে লিখেছেন।

অবশেষে দুদিন আগে শাহীন গ্যাংয়ের অন্তর্কলহে তার হারার বাসায় তাকে ইলিশ টুকরো করে হত্যা করে তার প্রতারিত পার্টনাররা। এপর্য্ন্ত্য ৩জন গ্রেফতার হয়েছে।

পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহীনকে প্রায় ৮০ টুকরা করে কয়েকটি পলিথিন ব্যাগে ভরে ধীরাব মরু এলাকায় ফেললে পুলিশের ড্রোন সিসি ক্যামেরায় তা ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গাড়িটিকে ফলো করলে গাড়ি ফেলে তারা দৌড়ে পালায়। পরে গাড়ির সূত্রে কিলাররা গ্রেফতার হয়।

উল্লেখ্য, অভিযোগ আছে সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর ইয়াবা আসে কার্গোতে সবজি আর গার্মেন্টসের নামে।

ক্রাইম রেট বেড়ে যাবার কারণে একবার বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ হয়েছিল সৌদি আরবে। যদিও ভারতীয় কয়েকজন সাইবার ক্রিমিনালের মিথ্যা প্রচারণা বেশি দায়ী ছিল এই ঘটনার জন্যে। বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎকালীন লেবার কাউন্সিলর নাট্যকার হারুন রশিদ হাফুফে ঘাপটি মেরে থাকা এই সাইবার ক্রিমিনালদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিলেন, আর পরিসমাপ্তি ঘটেছিলো বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার।

রিয়াদের অন্যতম কম্যুনিটি লিডার আব্দুস সালাম এবং আরো অনেকে বলেছেন, শাহীনের কোনো উত্তরাধিকারী যাতে আবার এধরণের অপরাধ চালু না করে তার জন্যে সর্বস্তরের প্রবাসীদের সতর্ক নজর রাখতে হবে এবং কিছু জানা মাত্র দূতাবাসকে অবহিত করতে হবে। 
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages