নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার,রাজাপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ভবনে ধ্বস! - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Sunday, March 05, 2017

নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার,রাজাপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ভবনে ধ্বস!

www.samobad.com :: সমবাদ ডট কম ॥

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের বরাদ্দ দেয়া ভবন নির্মানে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং মেয়াদোত্তীর্ন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়াগেছে মেয়াদোত্তীর্ন সিমেন্ট নিম্নমানের রড ব্যবহারের ফলে ধসে পড়েছে বাড়ির দেয়াল এতে কেউ হতাহত না হলেও দারুন ভাবে আশাহত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা .কে.এম নূরুল হক (৭৫) ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পশ্চিম ইন্দ্রপাশা গ্রামে
রাজাপুর উপজেলায় মোট ৪টি বাড়ি বরাদ্দ পেয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিটি বাড়ীতে সরকার ব্যয় নির্ধারন করেছে ৯লাখ ৮৫হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হকের বাড়িটি উপজেলার প্রথম নির্মান কাজ
মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক বলেন, গত ০৮ ফেব্রয়ারি বাড়ির নির্মান কাজ শুরু করে ঝালকাঠির এইচ আর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু দুই সপ্তাহ না যেতেই ২০ ফেব্রুয়ারি ভবনের মেঝেতে বালু ভরাট করার সময় পূর্বপাশের একটি দেয়াল ধ্বসে পড়ে এরপর নির্মান সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক কিন্তু তার কথা না শুনে ঠিকাদারের লোকজন কাজ চালিয়ে যায় এরপর গত  মার্চ ভবনের কাজ তদারকি করার সময় ভবনের ভিতরের আর একটি দেয়ালে হাতদিলে দেয়ালটি  নড়ে ওঠে সেই দেয়ালটিও ধ্বসে পরার উপক্রম হলে নির্মান কাজ বন্ধ করে দেন মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক পরে ঠিকাদার রিয়াজ হোসেন উপজেলা সহকারি প্রকৌশলি জাকির হোসেন এসে সেই নড়বড়ে দেয়ালটিও ফেলে দেন
মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক বলেন, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এত কিছু করছে কিন্তু দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের কারনে সরকারের সব অর্জন আজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে যে বাড়িটি আমার জন্য সরকারি টাকায় নির্মান করা হচ্ছে তাতে কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকবো?
সরোজমিন গিয়ে দেখাযায়, বাড়ি নির্মানের সময় পূর্ব পাশের যে দেয়ালটির গাঁথুনী ধ্বসে পড়েছিল তা স্তুপ করে রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে নির্মান সামগ্রীর মধ্যে ১০০ বস্তা সিমেন্টের ৮৮ বস্তা ইতিমধ্যে বাড়ি নির্মানে ব্যবহার করা হয়েছে যার বেশির ভাগই মেয়াদোত্তীর্ন এবং রড গুলো নি¤œমানের সিমেন্ট উৎপাদনের এক মাসের মধ্যে ব্যবহার করার নির্দেশনা থাকলেও বস্তার গায়ে লেখা সেই মেয়াদ গত ৬মাস আগেই শেষ হয়েছে এর ফলে সিমেন্টগুলো জমাট বেঁধে গেছে
নির্মান শ্রমিকদের সরদার মো. রাহুল জানায়, ঝালকাঠির এইচ আর এন্টারপ্রাইজ এর ঠিকাদার রিয়াজ সাহেব আমাদের কাজটি করতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন আমরা আগেই ঠিকাদারকে বলেছি নির্মান সামগ্রীগুলোর মান ভাল নয় তাই ঠিকাদার মেয়াদোত্তীর্ন সিমেন্টগুলো সরিয়ে নিতে বলেছেন
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফার রহমান মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ পেয়ে সহকারী প্রকৌশলি জাকির হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি সব নির্মান সামগ্রী খারাপ নয় তবে সিমেন্টের মেয়াদ শেষ হয়েগেছে তাই সেগুলো পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে
এবিষয়ে জানতে চাইলে এইচ আর এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদান রিয়াজ হোসেন বলেন, আমরা যে দোকান থেকে সিমেন্ট কিনেছি তারা মেয়াদোত্তীর্ন সিমেন্ট দিয়েছে তাই সেগুলো পরিবর্তন করছি এখন পর্যন্ত বাড়ি নির্মানের অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে তাতে যে নিম্নমানের সমগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে কোন স্বদোত্তর দিতে পারেননি এই ঠিকাদার
এবিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ্ আলম নান্নু প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একাত্তরে কোন মতে জীবনটা বাঁচলেও এখন যে ভাবে বাড়ি নির্মান হচ্ছে তাতে স্ব-পরিবারে মুক্তিযোদ্ধারা কবরবাসী হবে তিনি আরো বলেন, সরকার প্রতিটি বাড়ির জন্য প্রায় ১০লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে এর অর্ধেক টাকাও যদি ঠিকাদার খরচ করে তবে বাসযোগ্য একটি বাড়ী নির্মান করা সম্ভব
Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages