কাউয়া’ সমাচার - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Saturday, March 25, 2017

কাউয়া’ সমাচার

www.samobad.com :: সমবাদ ডট কম ॥

পলাশ রায়:
আমি রাজনৈতিক দলমত নিরপেক্ষ মানুষ। তবে সাম্প্রদায়িকতা মৌলবাদের বিপক্ষে। তাই কেউ কেউ পক্ষপতে দুষ্ট করতে পারেন।তবে তাতে আমার কিছুই যায় আসেনা।যদিও ভোটার হওয়ার পর থেকেই এখন পর্যন্ত জাতীয় বা স্থানীয় কোন পর্যায়ের নির্বাচনেই আমি ভোট দিতেও যাইনি কখনও।যাহোক নিরপেক্ষতার ছাফাই গাইতে গিয়ে নিজেকে আর তুলে ধরতে চাই না।
মোর্দা কথায় আসা আসি। দিন ধরেকাউয়াবিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক আলোচনা চলছে। গত বুধবার সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেন, ‘দলের মধ্যে কাউয়া ঢুকে গেছে।আর সেখান থেকেই এইকাউয়াঝর। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল এই কাউয়াদের কে বা কারা আপনাদের দলে ভিড়তে দিচ্ছে? কিভাবে ঢোকে এই কাউয়ারা। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোন চাপ আছে বলেতো আমার মনে হয় না। আর আমি কেন কেউ বলতেও পারবে না কাউয়াদের আওয়ামী লীগে পদ দিতে বা ঢুকাতে আন্তর্জাতিক চাপ ছিল বা আছে। তবে কেন এই কাউয়ার মিছিল আওয়ামী লীগে?
আসলে আওয়ামী লীগই কাউয়াদের পৃষ্ঠোপোশক। আর দলীয় গণতন্ত্রহীনতাও এর একটি বড় কারণ।হুজুর যা বলেন চমৎকারতো হতেই হবেরাজনৈতিক দলগুলোতে এই অবস্থা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগে। দেশের অনেক হ্যাভিওয়েট নেতাদের দেখিছি আমি।কেউ কেউ আছেন মুক্তিযুদ্ধেরও সংগঠক। নাম নাই বা বললাম। ঠ্যাং ভেঙে যাওয়ার ভয় আছে বলে নাম মুখে নিলাম না, পাঠক বুঝে নিয়েন।জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগে স্বাধীনতাবিরোধীরা ঢুকে পড়েছে। তাদের কেউ কেউ এখন জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতাও।সেখানে এমন নেতাও রয়েছেন যারা পারিবারিক ভাবেই মৌলবাদ দুষ্ট চিন্তার।অনেক সময় দেখা গেছে পারিবারিক চর্চার কারণে আজও আওয়ামীগের সভা বা সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জয় বাংলার বদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে ফেলেন।গণমাধ্যমে সংবাদও হচ্ছে নিয়ে।হুজুরকে সুবিধা দিয়ে তারাই এখন বড় আওয়ামী লীগার।এদের দ্বারা কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাস্তবায়ন হবে? যারা পারিবারিক ভাবেই আওয়ামী চেতনার উল্টো রথ চালিয়ে আসছিলেন, তাদেরকেই এখন আওয়ামী লীগের রথে দেখছি। লোকমুখে শুনছি, এক্ষেত্রেহুজুররাঅনেকে নাকী বলেন, যারা এতদিন জামায়ত বিএনপি করছে তারা যে আওয়ামী লীগ করতে পারবে না এমন কোন কথা আছে?
হুজুর মহোশয়, আসলে এমন কোন কথাই থাকার কথা। আর থাকার কথা বলেই জামায়াতের যেকজন ভোটার সেকজনই কর্মী, সেকজনই পিকেটার, সেকজনই রাজপথে।জাময়াত থেকে শিক্ষা নিন। না, হত্যা বা জ্বালাও পোড়ায় শিক্ষা নয়, সাংগঠনিক শিক্ষা নিতে হবে জামায়াত থেকে।
চেষ্টা করে দেখেন তো আওয়ামী লীগের লোকজন রাতারাতি জামায়াতের নেতা হতে পারেনকীনা। না কোন দিনই তা সম্ভব হবে না। ধাপে ধাপে পুড়ে পুড়ে আপনাকে জামায়াতের কর্মী থেকে নেতা হতে হবে।গণতান্তিক পন্থায় নেতার আসন নির্ধারিত হয় সেখানে, পয়সার জোরে বা হুজুরের ইচ্ছায় নয়।দেশব্যাপি আজ হাইব্রিড বা আওয়ামী লীগের দোকান নিয়ে যারা বসেছেন, তারা এখন বীরদর্পে আছেন। আগামীতে দশ্যপঠ পাল্টালেও তারাই আবার আগের স্থানেই ফিরে যাবেন, তেমন কোন সমস্যা হবে না। আসলে চেতনা রাতারাতি বদলায় না। মাঠ বদল হতে পারে, বদল হতে পারে খেলোয়ার। কিন্তু রাজনীতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আদর্শিক ক্লাস করতে হয়। আর যার চর্চা আওয়ামী লীগে নেই মোটেই।
আসলে আওয়ামী লীগের শর্ষের মধ্যেই যতদিন ভূত থাকবে ততদিনে কাউয়া খেদান (তাড়ানো) সম্ভব হবেনা কোন ভাবেই। আর তাই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী চেতনার ধারকবাহক দলটি দিন দিন মুক্তচিন্তার পথভ্রষ্ঠ হচ্ছেকাউয়ারমিছিলে।
তবে এখনও সময় আছে, দলভারি বা পার্থিব সুবিধা পদদলিত করে দুধমাখা ভাতকাউয়ারমুখে তুলে নাদিয়ে কাক তাড়ুয়া হোন আওয়ামী লীগেরহুজুরমহোদয়রা।
(লেখক: পলাশ রায়, মানবাধিকার গণমাধ্যমকর্মী, ঝালকাঠি।)

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages