ফরম সংকটের কারণে উখিয়ায় ১০ হাজার ভোটার বাদ পড়ার আশংকা - অনলাইন দৈনিক সমবাদ,সত্য সংবাদ প্রকাশে ২৪ঘন্টা,True News publish the 24 hours "Online Daily Samobad"

শিরোনাম

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, August 07, 2015

ফরম সংকটের কারণে উখিয়ায় ১০ হাজার ভোটার বাদ পড়ার আশংকা

www.samobad.com :: অনলাইন, দৈনিক সমবাদ,প্রতিনিধিঃ ॥ অপ্রতুল ভোটার ফরম, জন্ম সনদ, ভোটার আইডি কার্ড সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পারায় চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম থেকে উখিয়ায় প্রায় ১০ হাজার ভোটার বাদ পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ভোটার ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা তাদের কর্মস্থলে বা বাড়িতে বসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন করায়, অনেকেই রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেনি। তবে তথ্য সংগ্রহকারীরা এ অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে বলছেন, তারা সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছে।
জানা গেছে, এ উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৫৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ১৩ জন সুপারভাইজার ২৫ জুলাই সকাল ৯টা থেকে একযোগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করেছে। এ সময় আবহাওয়ার বৈরী আচরনের ফলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ১ জানুয়ারি ২০০০ সনের পূর্বে যারা জন্মগ্রহণ করেছে তারাও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে এলাকায় যুবক শ্রেণির মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে ভোটার অনুযায়ী নির্বাচন অফিস চাহিদামত তথ্য ফরম সরবরাহ না করায়, বিপুল পরিমাণ ভোটার বাদ পড়ার আশংকা করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ নিয়ে রাজাপালং ১নং ওয়ার্ডের প্রায় ২ শতাধিক ভোটার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এ সময় ভোটারদের পক্ষে নেতৃত্বদানকারী আব্বাস উদ্দিন বাবু জানান, তথ্য সংগ্রহকারী ফরম সরবরাহ না করার কারণে এ ওয়ার্ডের ২ শতাধিক ভোটার বাদ পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। পরে নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে আলাপ করে উপস্থিত ভোটারদেরকে যে কোন মূল্যে ভোটার ফরম সরবরাহের আশ্বস্থ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ডেইলপাড়া গ্রামের তথ্য সংগ্রহকারী মোহাম্মদ আলী জানান, তার এলাকায় ভোটার হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ৩ শতাধিক লোক থাকলেও তাকে ফরম সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৫০টি।
পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার এলাকায় রোহিঙ্গা ভোটার হওয়ার কোন তথ্য নাই। তথাপিও তথ্য সংগ্রহকারীরা ১৯৯৫ এর আগে যাদের বয়স হয়েছে তাদেরকে রেজিষ্ট্রেশন না করায় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম থেকে পালংখালী ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ভোটার বাদ পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী জানান, নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সরবরাহ ও অপ্রতুল ভোটার ফরম সরবরাহের কারণে তার ইউনিয়নে হাজারেরও অধিক ভোটার বাদ পড়তে পারে। তবে ভোটারেরা যাতে ভোটার তালিকা হতে বাদ না পড়ে সেজন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যথেষ্ট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, তথ্য সরবরাহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছে। রোহিঙ্গা যাছাই বাচাই করে রেজিষ্ট্রেশন করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারীদের বিলম্ব হলেও কর্মক্ষেত্রে অবহেলার করার কোন অভিযোগ নেই। তিনি জানান, এ পর্যন্ত সাড়ে ৮ শতাংশ ভোটার ফরম সরবরাহ করা হয়েছে। প্রয়োজন বশত: সুপারভাইজারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারীদের চাহিদা মতো রেজিষ্ট্রেশন ফরম সরবরাহ দেওয়া হবে।

কায়সার হামিদ মানিক
উখিয়া, কক্সবাজার।

No comments:

Post Bottom Ad

Pages